মিরপুরে ব্যাটিং ধস: টাইগারদের সম্বল এখন কেবলই বিশ্বাস
মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিনে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ দল, ফলে টাইগারদের ভরসা এখন কেবল বিশ্বাস ও অলৌকিক কিছু।

শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে চরম হতাশার মধ্যে পড়ে টাইগার ব্যাটাররা। খেলায় নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করার পরিবর্তে স্বাগতিক দল আবারও চেনা ব্যাটিং ধসের শিকার হয়ে দিন শেষ করেছে ৬ উইকেটে ৭৯ রান নিয়ে, যেখানে তাদের সামগ্রিক লিড মাত্র ১০৬ রানের।
মিরপুরের আকাশে জমে ওঠা কালো মেঘ ও দফায় দফায় বৃষ্টির বাগড়া সাম্প্রতিক বছরগুলোর সেই পুরনো স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে, যেখানে দফায় দফায় ব্যাটিং বিপর্যয়ের কারণে হাতছাড়া হয়েছে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ। দল চরম বিপদে পড়ায় দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে ব্যাটারদের বাজে শট নির্বাচন নিয়ে।
তৌহিদ হৃদয়ের শট নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তি প্রকাশ করে স্পিনার নাঈম হাসান জানান, ড্রেসিংরুমে আসলে কী চলছিল সে বিষয়ে তার কোনো ধারণাই নেই। ইনিংসের শুরুতেই রস্টন চেইসের বলে মিড-অনে ক্যাচ দিয়ে মাত্র দুই বলে শূন্য রানে ফেরেন হৃদয়, ঠিক আগের দিনও একইভাবে বোল্ড হয়েছিলেন তিনি।
স্পিনবান্ধব উইকেট তৈরির কৌশল শেষ পর্যন্ত বুমেরাং হয়ে দেখা দিয়েছে, যার সঙ্গে যোগ হয়েছে ব্যাটারদের নিজেদের ভুল সিদ্ধান্ত। শমার জোসেফের বলে ব্যাটের মুখ আগে বন্ধ করে গালিতে ক্যাচ দেন তানজিদ তামিম, অন্যদিকে থিতু হওয়া ওপেনার সাদমান ইসলাম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত দুজনই চেইসের সোজা ডেলিভারিতে পরাস্ত হয়ে বোল্ড হন।
জমেল ওয়ারিকেনের বলে টার্ন বুঝতে না পেরে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন লিটন দাস, যা দলের চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া ফিল্ডিং করার সময় মাথায় আঘাত পাওয়ায় ব্যাটিংয়ে নামতে পারেননি মুমিনুল হক, যা দলের নড়বড়ে ব্যাটিং লাইনআপকে আরও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেয়।
শেষ পর্যন্ত স্পিনার নাঈম এবং কনকাশন সাব হিসেবে নামা জাকের আলী ২৬ রানের একটি কষ্টার্জিত জুটি গড়ে দলের লিড একশ পার করেন। ড্রেসিংরুমে কোনো আতঙ্ক কাজ করেনি দাবি করে নাঈম জানান, লিটন ভাইয়ের মতো কেউ ইনিংস টেনে নিয়ে যাবেন—এমন বিশ্বাস সবার মধ্যেই ছিল।
তবে লিটন ইতিমধ্যে প্যাভিলিয়নে ফেরায় এবং দীর্ঘ এক বছর পর টেস্ট খেলতে নামা জাকের আকস্মিক সুযোগ পাওয়ায় সেই বিশ্বাস বড় ধাক্কা খেয়েছে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলার আশা বাঁচিয়ে রাখতে হলে টাইগারদের বাকি ব্যাটার ও স্পিন আক্রমণকে এখন দুর্দান্ত কিছু করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে নাঈম আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান, তিনি এবং জাকের ভাই তাদের জুটিটাকে আরও লম্বা করতে পারবেন বলে বিশ্বাস করেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বাস আর একটি অলৌকিক ঘটনাই কেবল টাইগারদের একমাত্র সম্বল হয়ে রয়েছে।