লর্ডসে বিতর্ক: পাকিস্তানের বয়কটের গুঞ্জনে সরফরাজ বললেন, 'আমরা কিছুই জানি না'
পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ছেলেদের নিয়ে স্কাই স্পোর্টসের একটি সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে লর্ডস টেস্টে তৈরি হয়েছিল বড় ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা। শোনা যাচ্ছিল, ম্যাচ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে পিসিবি। তবে দলের প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ জানিয়েছেন, এ বিষয়ে খেলোয়াড়দের কিছুই জানা ছিল না।

উল্লেখ্য: ক্রিক্রেজের সকল সংবাদ উভয় ভাষায় সংরক্ষণের অংশ হিসেবে ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এই বাংলা সংস্করণটি অনুবাদ করা হয়েছে।
ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের মধ্যকার লর্ডস টেস্টের দ্বিতীয় দিনে মাঠের লড়াই ছাপিয়ে বড় ধরনের রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। স্কাই স্পোর্টসের একটি সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ম্যাচ থেকে দল প্রত্যাহার করে নেওয়ার হুমকি দিয়েছে—এমন খবর ক্রিকেট বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি করে। ম্যাচের প্রথম দিন মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে কারাবন্দি সাবেক পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দুই ছেলে সুলাইমান ও কাসিম খানের সাক্ষাৎকার সম্প্রচার করা হয়। এতেই চটে যায় পিসিবি।
এই বিতর্কের মাঝেই পাকিস্তানের প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ দাবি করেছেন, পিসিবির এমন কোনো সিদ্ধান্তের কথা তিনি বা দলের খেলোয়াড়রা ঘুণাক্ষরেও জানতেন না। দলের ভেতরের এই অগোচরে থাকাটা বেশ অবাক করার মতোই।
১৮ মিনিটের সেই সাক্ষাৎকারে ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা ও বন্দি জীবনের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। এটি নিয়ে পিসিবি তীব্র আপত্তি জানায় এবং ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডকে (ইসিবি) সতর্ক করে যে, যদি এই 'রাজনৈতিক বিষয়বস্তু' প্রচার করা হয়, তবে পাক ক্রিকেটাররা আর মাঠে ফিরবেন না।
দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সরফরাজ আহমেদ বলেন, 'আমি কিছুই জানি না। আমার পুরো মনোযোগ কেবল ম্যাচেই। এই সাক্ষাৎকার নিয়ে আমাদের কোনো ধারণা নেই।'
এমন হুমকির গুঞ্জন শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান দল মাঠে ফিরেছে এবং টেস্ট ম্যাচটি নির্বিঘ্নেই এগিয়ে চলেছে। খেলোয়াড়দের বয়কটের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সরফরাজ বলেন, 'সব ঠিক আছে। ওই সময় আমরা লাঞ্চ করছিলাম।' অর্থাৎ, মাঠের বাইরে বড় ধরনের রাজনৈতিক চালবাজি চললেও তাতে খেলোয়াড়দের মনোযোগ ছিল না বললেই চলে।
এদিকে মাঠের ক্রিকেটে প্রথম দিনে পেসার মোহাম্মদ আব্বাস দুর্দান্ত বোলিং করে ৫৬ রানে ৪ উইকেট নেন। তাকে দারুণ সঙ্গ দেন মোহাম্মদ আলী (৩/৬৭)। জর্ডান কক্স (৫৫) ও জেমি স্মিথের (৬১) লড়াইয়ে ভর করে ইংল্যান্ড ২৪৮ রান তুললেও, দ্বিতীয় দিন শেষে ২৬১ রানের লিড নিয়ে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে স্বাগতিকরা।
পিসিবির বর্তমান চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি একইসাথে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ায় ক্রিকেট ও রাজনীতির এই মিশেল নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। যদিও ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়িয়েছে, তবে এমন ঘটনা প্রতিযোগিতামূলক এই সিরিজে কিছুটা হলেও অস্বস্তির ছায়া ফেলেছে। অতীতেও নানা ইস্যুতে পিসিবির এমন বয়কটের হুমকি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বেশ নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, যা খেলোয়াড়দের মনোবল এবং সম্পর্কের ক্ষেত্রেও প্রশ্ন তুলে দেয়। সরফরাজ যাই বলুন না কেন, পাকিস্তান ক্রিকেটে রাজনীতি ও খেলার সীমারেখা যে ক্রমশ ঝাপসা হয়ে আসছে, তা স্পষ্ট।