১১,১৬৭ রান করেও জাতীয় দলে উপেক্ষিত, কোচ অমল মজুমদারের অনন্য বিশ্বজয়
ভারতের জাতীয় দলে খেলার সুযোগ না পেয়েও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১১,১৬৭ রান করা মুম্বাই কিংবদন্তি অমল মজুমদার কোচ হিসেবে এবার বিশ্বকাপের ট্রফি ছুয়েছেন।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১১ হাজারের বেশি রান করার পরও জাতীয় দলের নীল জার্সি গায়ে তুলতে না পারাটা ভারতীয় ক্রিকেটের এক চিরন্তন আক্ষেপের গল্প। তবে সেই অমল মজুমদার অবশেষে কোচ হিসেবে বিশ্বমঞ্চে ট্রফি উঁচিয়ে ধরার অনন্য স্বাদ পেলেন।
প্রায় দুই দশকের দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য ঘরোয়া ক্যারিয়ারে মুম্বাইয়ের এই ব্যাটার করেছেন ১১,১৬৭ রান। তবে ভারতের ক্রিকেটের 'স্বর্ণালী যুগে' আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নাম করার সুযোগটা আর তাঁর ভাগ্যে জোটেনি।
শচীন টেন্ডুলকার, রাহুল দ্রাবিড়, ভিভিএস লক্ষ্মণ ও সৌরভ গাঙ্গুলীদের উপস্থিতি তখন ভারতীয় টেস্ট দলের ব্যাটিং লাইনআপকে একধরনের অভেদ্য দুর্গে পরিণত করেছিল। যে কারণে ঘরোয়া রনজি ট্রফিতে রান তাণ্ডব চালিয়েও অমলকে সারাজীবন আন্তর্জাতিক অভিষেকের অপেক্ষাতেই থাকতে হয়েছে।
জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামার স্বপ্ন অধরা থাকলেও খেলাটিকে বিদায় জানাননি তিনি। খেলোয়াড়ি জীবনের পর নিজেকে একজন নিখুঁত কোচ ও ক্রিকেটীয় কৌশলী হিসেবে গড়ে তোলেন অমল মজুমদার।
খেলোয়াড়দের মানসিকতা বোঝা ও তাদের টেকনিক্যাল দিক সামলানোর দক্ষতা তাকে ধীরে ধীরে কোচিং জগতের শীর্ষপর্যায়ে নিয়ে আসে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে জাতীয় দলের দায়িত্ব পেয়ে নিজের ক্রিকেট মস্তিষ্কের প্রমাণ দিয়েছেন হাতেনাতে।
দল নির্বাচকদের উপেক্ষার শিকার হওয়া একজন সাবেক ক্রিকেটারের জন্য কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের ট্রফি উঁচিয়ে ধরা নিশ্চিতভাবেই এক দারুণ কাব্যিক বিচার।
অমল মজুমদারের এই পথচলা স্পষ্ট করে দেয় যে, খেলোয়াড় হিসেবে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ না হলেও ক্রিকেটের প্রতি একনিষ্ঠ দায়বদ্ধতা থাকলে অন্য ভূমিকাতেও বিশ্বজয়ের অধ্যায় লেখা সম্ভব।