কেয়ারি ও ইংলিসের প্রতিরোধে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চালের ড্রাইভার অস্ট্রেলিয়া
উইকেটরক্ষক-ব্যাটার অ্যালেক্স কেয়ারি ও জশ ইংলিসের দায়িত্বশীল ফিফটিতে ভর করে কেপ টাউনে দিন শেষে ৪ উইকেটে ৩৩০ রান সংগ্রহ করেছে অস্ট্রেলিয়া।

কেপ টাউনের প্রথম দিনটি যদি রোলারকোস্টার রাইডের মতো কেটে থাকে, তবে দ্বিতীয় দিনটি ছিল কিছুটা শান্ত গতির, যদিও পাহাড়ঘেরা স্টেডিয়ামের পটভূমির সঙ্গে মানানসই উত্থান-পতন ঠিকই বজায় ছিল। ইনিংসে দুই দফায় জোড়া ধাক্কা দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার রানের গতি রোধ করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা, কিন্তু প্রতিবারই দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে অজি ব্যাটাররা। শেষ পর্যন্ত জশ ইংলিস ও অ্যালেক্স কেয়ারির ব্যাটে ভর করে দক্ষিণ আফ্রিকার ৩২৯ রানের জবাবে ৪ উইকেটে ৩৩০ রান তুলে চালকের আসনে বসেছে অস্ট্রেলিয়া। হাতে ছয় উইকেট নিয়ে তারা তৃতীয় দিনে ইনিংস বড় করার অপেক্ষায় রয়েছে।
ট্রাভিস হেড উইকেটে থাকা পর্যন্ত মনে হচ্ছিল প্রথম দিনের পুনরাবৃত্তি ঘটতে যাচ্ছে, যেখানে আগের দিন এইডেন মার্করাম ও মার্কেস অ্যাকারম্যান মিলে ১৪০ রান তুলেছিলেন। অফ স্টাম্পের বাইরের বলগুলোতে হাত চালিয়ে ৭টি বাউন্ডারি আদায় করেন হেড। ৫৩৮ রানের জুটিতে তার অবদান ছিল ৪১ রান, পরে সাইমন হারমারের অফ স্পিনে কাট করতে গিয়ে বোল্ড হন তিনি। তার নতুন ওপেনিং সঙ্গী ম্যাথিউ রেনশ অবশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন মেজাজ দেখিয়ে নতুন বল অত্যন্ত সুচারুভাবে সামলান এবং ডিফেন্ড করেন।
একই ওভারে হারমার ফের আঘাত হানেন এবং মারনাস লাবুশেনকে স্লিপে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন। কোনো রান না করেই সাজঘরে ফেরেন লাবুশেন। স্পিনের বিপক্ষে পা নড়াচড়া না করে রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে ব্যাট চালাতে গিয়ে উইকেট বিলিয়ে আসেন তিনি। এরপর দলের ইনিংস মেরামতের দায়িত্ব নেন ক্যামেরন কেন। কাগিসো রাবাদার শর্ট বলগুলোতে পরপর দুটি ছক্কা ও একটি চারে বিস্ফোরক এক ওভার উপহার দিয়ে এই জুটিতে ৮৫ রান যোগ করেন গ্রিন।
চা বিরতির ঠিক আগে অতিরিক্ত বাউন্সে রেনশের (৬৫) ব্যাটের কানায় লেগে বল উইকেটের পেছনে জমা পড়লে রিভিউর মাধ্যমে সাফল্য পান মার্কো ইয়ানসেন। একই ওভারে হারমারের শিকার হয়ে ৭৪ রান করে ফেরেন গ্রিনও। ১৮৫ রানে চার উইকেট হারিয়ে কিছুটা বিপদে পড়া অস্ট্রেলিয়াকে পথ দেখান দুই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার কেয়ারি ও ইংলিস। তাদের দায়িত্বশীল জুটিতেই বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠে দলটি।
কেয়ারি যখন রক্ষণাত্মক শট ও সুনির্দিষ্ট প্লেসিংয়ের মাধ্যমে ইনিংসের নোঙর শক্ত করেন, তখন ইংলিস বেছে নেন আক্রমণাত্মক পাল্টা জবাব। ফিফটি পূর্ণ করার পর হাত খুলে খেলা শুরু করেন ইংলিস। হারমার ও রাবাদার বিপক্ষে ছক্কা হাঁকানোর পাশাপাশি জেরাল্ড কোটজির বলে পরপর দুটি চার আদায় করেন তিনি। দিন শেষে এই জুটির রান দাঁড়ায় অপরাজিত ১৪৫, যেখানে কেয়ারি ৫১ এবং ইংলিস ৮৫ রান নিয়ে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন।