Features & Analysis

তেন্ডুলকরের সঙ্গে অভিষেক, টিউমারে শেষ কেরিয়ার: আঙ্কোলার করুণ গল্প

শচিন তেন্ডুলকরের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর মাত্র ২৮ বছর বয়সে হাড়ের টিউমারে থমকে যায় ভারতীয় পেসার সলিল আঙ্কোলার ক্যারিয়ার। এরপর দীর্ঘ সময় লড়েছেন তীব্র অবসাদের সঙ্গে।

তেন্ডুলকরের সঙ্গে অভিষেক, টিউমারে শেষ কেরিয়ার: আঙ্কোলার করুণ গল্প
নব্বইয়ের দশকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে জাতীয় দলের জার্সিতে সাবেক ভারতীয় পেসার সলিল আঙ্কোলা। ছবি: এক্স ইমেজ

১৯৮৯ সালের নভেম্বরে করাচি টেস্টে ভারতের জাতীয় দলে একসঙ্গে অভিষেক হয়েছিল দুই উদীয়মান তরুণ ক্রিকেটার—শচিন তেন্ডুলকার ও সলিল আঙ্কোলা। সময় গড়িয়ে শচিন বিশ্ব ক্রিকেটের মহীরুহ হয়ে উঠলেও, ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আঙ্কোলার আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে নেমে আসে ঘোর অমানিশা।

ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রথম মরশুমেই হ্যাটট্রিকসহ ২৭টি উইকেট শিকার করে দ্রুত জাতীয় নির্বাচকদের নজর কাড়েন আঙ্কোলা। গতি ও চতুর স্যুইংয়ের প্রদর্শনী দেখিয়ে পাকিস্তান সফরের মতো কঠিন মঞ্চে ভারতের একাদশে সুযোগ পান এই ডানহাতি পেসার।

করাচি টেস্টে জোড়া উইকেট পেলেও রহস্যজনকভাবে সিরিজের বাকি ম্যাচগুলোতে আর একাদশে রাখা হয়নি আঙ্কোলাকে। তবে ভারতের সীমিত ওভারের দলে নিয়মিত সদস্য হয়ে ওঠেন তিনি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত ১৯৯৬ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দলেও জায়গা পান এই পেসার।

ভারতের হয়ে একটি টেস্ট এবং ২০টি আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচে ১৩টি উইকেট পান আঙ্কোলা। কিন্তু বোলিং যখন পরিপূর্ণতা পাচ্ছিল, ঠিক তখনই তাঁর সম্ভাবনাময় কেরিয়ারে বড় আঘাত হয়ে আসে একটি মারাত্মক শারীরিক ব্যাধি।

১৯৯৭ সালে মাত্র ২৮ বছর বয়সে তাঁর পায়ের হাড়ে টিউমার ধরা পড়ে। চিকিৎসকরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জোরে বোলিংয়ের মতো কঠোর শারীরিক চাপ নেওয়া তাঁর পক্ষে আর কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এক লহমায় থেমে যায় তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট যাত্রা।

প্রিয় খেলা থেকে এভাবে ছিটকে পড়ে দীর্ঘ দিন মানসিক অবসাদ ও জীবনযুদ্ধের কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয় তাঁকে। তবে প্রবল ইচ্ছাশক্তিতে সেই কালো অধ্যায় পেছনে ফেলে পরবর্তীতে অভিনয় জগতে নতুন ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন আঙ্কোলা। জীবনের শেষভাগে আবার ফেরেন চেনা আঙিনায়, দায়িত্ব সামলেছেন ভারতীয় জাতীয় দলের নির্বাচক হিসেবেও।