Australia

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে বন্দুকের মুখে পড়ার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা শোনালেন অসি ক্রিকেটাররা

১৯৯৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ব্লুমফন্টেইনে বন্দুকের মুখে পড়ার ও প্রতিকূল গ্যালারির সামনে খেলার রোমহর্ষক স্মৃতির কথা জানালেন সাবেক অস্ট্রেলিয়ান পেসার পল রাইফেল ও মার্ভ হিউজ।

Cricraze Editor
দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে বন্দুকের মুখে পড়ার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা শোনালেন অসি ক্রিকেটাররা
১৯৯৪ সালের ১০ মার্চ জোহানেসবার্গে প্রথম টেস্টের শেষ দিনে মার্ভ হিউজের ব্যাট ধরে টানছেন এক দর্শক। ছবি: নিউজ কর্প অস্ট্রেলিয়া

অধিনায়কের নির্দেশ অমান্য করলে সাধারণত আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের দ্রুত সমাপ্তি ঘটে, তবে দক্ষিণ আফ্রিকায় এমন এক অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন সাবেক অস্ট্রেলিয়ান পেসার পল রাইফেল যে তিনি সেই ঝুঁকি নিতেও প্রস্তুত ছিলেন। ব্লুমফন্টেইনে ফাইন লেগ অঞ্চলে দাঁড়িয়ে দর্শকদের কাছ থেকে জীবননাশের হুমকি শোনার পর অধিনায়ক মার্ক টেইলরের নির্দেশ অমান্য করাই শ্রেয় বলে মনে করেছিলেন তিনি।

ভিক্টোরিয়ান এই পেসার, যিনি বর্তমানে বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা আম্পায়ার, ১৯৯৪ সালে অরেঞ্জ ফ্রি স্টেটের বিপক্ষে একটি ট্যুর ম্যাচ খেলার সময় মারাত্মকভাবে ভড়কে গিয়েছিলেন। টেস্ট সিরিজের প্রস্তুতিমূলক সেই ম্যাচে হ্যান্সি ক্রনিয়ে ডাবল সেঞ্চুরি করে অসি বোলারদের ওপর তাণ্ডব চালালেও, রাইফেলের জন্য মূল বিপদের উৎস ছিল বাউন্ডারি রোমের ঠিক বাইরের গ্যালারি।

বিরতির পর মাঠে ফিরে রাইফেল দেখতে পান এক দর্শক তাঁর দিকে অস্ত্র তাক করে আছে। সতীর্থ মার্ভ হিউজের মতে, বিরতির সময় ফ্যাকাশে মুখে সাজঘরে ফিরে আসেন রাইফেল এবং জানান যে এক ব্যক্তি পয়েন্ট ফোর ফোর ম্যাগনামের মতো দেখতে একটি বন্দুক তাঁর দিকে ধরে টেস্টিং ট্রিগার চেপেছিল, যদিও শেষ পর্যন্ত সেটি শুধু ক্লিক শব্দ করে।

দর্শকদের সেই ঠাট্টা আর মৃত্যুর হুমকি তাড়া করে ফিরেছিল ভিক্টোরিয়ান পেসারকে। এরপর আর ওই পজিশনে ফিল্ডিংয়ে নামতে অস্বীকৃতি জানান রাইফেল। অধিনায়ক টেইলর তখন মার্ভ হিউজকে সেখানে যাওয়ার নির্দেশ দিলে তিনিও তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন, যার ফলে ম্যাচের বাকি সময়ে ফাইন লেগ পজিশনটি ফাঁকাই পড়েছিল।

সেই সফর স্মরণে রেখে সাবেক ক্রিকেটাররা জানান যে দক্ষিণ আফ্রিকার ভিন্ন ধরনের বন্দুক সংস্কৃতি এবং আক্রমণাত্মক গ্যালারি সফরকারী দলগুলোর জন্য সবসময়ই বড় পরীক্ষা। জোহানেসবার্গের বুলরিংয়ের মতো ভেন্যুতে তীব্র কটূক্তির মুখে পড়তে হলেও, মাঠে হাসিমুখে থাকা এবং অটোগ্রাফ দেওয়ার মাধ্যমে স্থানীয় দর্শকদের মন জয় করা সম্ভব বলে মনে করেন তারা।